
নিজস্ব প্রতিবেদক :
দায়িত্বে অবহেলা এবং আর্থিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। জোনের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ এবং ব্যাংকের আর্থিক নিরাপত্তা রক্ষার্থে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়মিত ও সঠিক সময়ে দপ্তরে উপস্থিত হন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন , যা ব্যাংকিং শৃঙ্খলার পরিপন্থী। সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা এবং তাদের অনৈতিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে জোনের নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে তিনি চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক মোঃ খোরশেদ আহমেদ দুলাল ও মোঃ সেকেন্দার কমিশনারের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বড় অংকের ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে মোটা অংকের কমিশন গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। জোনের প্রকৃত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং কৃষকরা তাদের ন্যায্য কৃষি ঋণ ও ক্ষুদ্র ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সঠিক ব্যক্তিরা ঋণ না পেলেও কমিশনের বিনিময়ে বিশেষ মহলের ফাইল দ্রুত ছাড় করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা – কর্মচারী অভিযোগ করেছেন যে , বিধি মোতাবেক পাওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাদের ব্যক্তিগত লোন ফাইলগুলো ডিজিএম মহোদয় দীর্ঘ সময় আটকে রাখেন , যা কর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। মোঃ অহিদুজ্জামান বর্তমানে এই জোনের ডিজিএম হিসেবে কর্মরত থাকলেও এর আগে তিনি এখানে একাধিকবার ‘ জোনাল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই এলাকায় বারবার এবং দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকার সুযোগে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও ব্যক্তিগত প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন। এই দীর্ঘ মেয়াদী অবস্থানের সুযোগ নিয়েই তিনি ব্যাংকের নিয়ম – নীতি উপেক্ষা করে বড় লোন বিতরণ এবং কমিশন বাণিজ্যের মতো দুঃসাহস দেখাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। উক্ত অনিয়মগুলোর ফলে লালমনিরহাট জোনে রূপালী ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের স্পৃহা হ্রাস পাচ্ছে এবং সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাংকের প্রতি অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে এই ধরণের অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত আবশ্যক।
