মঙ্গলবার দুপুরে শহরের গোলাহাট রেলওয়ে কলোনি এলাকার বাসা থেকে শামীমা আক্তারের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম জানান।
সোহাগ ও শামীম দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। শেখ সোহাগ ৫ অগাস্টের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় মামলা রয়েছে।
পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, দুপুরের দিকে ছোট ননদ মনি আক্তার শামীমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার করেন। লোকজন তাকে সৈয়দপুর ১০০ শষ্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় কালচে দাগের চিহ্ন রয়েছে।”
ওসি রেজাউল করিম বলেন, “ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
]]>‘উৎসব হোক সবার জন্য’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে জেলার সৈয়দপুরে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অসহায় ও দুস্থ পরিবারগুলোর মাঝে এই ঈদসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
নীলফামারী জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি মো. নুর আলম সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রংপুর অঞ্চলের সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুস শামীম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রতিবছর দুস্থ মানুষকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা তাদের সমস্যার কোনো টেকসই সমাধান নয়। বরং আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে মানুষের সব ধরনের মানবাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। পুঁজিবাদী ও সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বাতিল করে আল্লাহর দেওয়া অর্থব্যবস্থা প্রণয়ন করতে পারলেই কেবল সমাজ থেকে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব।”
সভাপতির বক্তব্যে মো. নুর আলম সরকার বলেন, “আমরা প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঈদ উপলক্ষে কিছু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে ও সামান্য ঈদসামগ্রী দিতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।”
উপহারসামগ্রী নিতে আসা স্থানীয় এক নারী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “জিনিসপত্রের যে চড়া দাম, তাতে এবার সেমাই-চিনি কেনাই কঠিন ছিল। হেযবুত তওহীদের এই উপহার পেয়ে আমাদের বাচ্চাগুলো অন্তত ঈদের দিন ভালো কিছু খেতে পারবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা উপজেলা সভাপতি মাওলানা আতিকুল ইসলাম, সৈয়দপুর উপজেলা সভাপতি ওয়াসিম আলম এবং জেলা ছাত্র ফোরামের সভাপতি মো. মাসুদ রানাসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন। তারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য হেযবুত তওহীদের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
]]>বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে নিতাই ইউনিয়নের বেলতলি বাজারের গোডাউনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
চাল বিতরণের সময়ে দেখা যায়, তালিকায় নাম থাকলেও অনেক অসহায় দুস্থ মানুষ চাল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকে বয়োবৃদ্ধ, কেউ বিধবা, কেউ স্বামী পরিত্যক্তা। আবার কেউ এমন আছেন যারা চলাফেরা করতে পারেন না বা ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবনযাপন করেন। তারাই এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চাল নিতে এসে তালিকায় নাম থেকেও চাল না পেয়ে অনেক বৃদ্ধা অসহায় নারী চোখের পানি ফেলতে ফেলতে ফিরে যান। প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের নাম তালিকায় থেকেও তারা চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
আরও দেখা যায়, সুবিধাভোগীদের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও যারা চাল পেয়েছেন তাদের পরিমাণে কম দেওয়া হয়েছে। কেউ ৭ কেজি আবার কেউ ৮ কেজি চাল পেয়েছেন।
ভুক্তভোগী রাশিদা বেগম বলেন, আমাকে ভিজিএফ চাল নেওয়ার জন্য স্লিপ দেওয়া হয়েছে তবে এখানে সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাল পাইনি। আমি আশ্রয়ণ প্রকল্কের ঘরে থাকি খুব গরিব মানুষ ঈদে খাবো সে অবস্থা নেই।
আরেক ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী আলতানুর রহমান বলেন, আমি প্রতিবন্ধী মানুষ চলাফেরা করতে পারি না। আমাকে এবার ঈদে ১০ কেজি চালের জন্য স্লিপ দেওয়া হয়েছে তবে এখানে এসে সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থেকেও পেলাম না। এখন চিন্তা হচ্ছে পরিবারের লোকজন কি খাবে।
চাল পাওয়া সুবিধাভোগী কহিনুর বেগম বলেন, আমাকে ১০ কেজি চালের স্লিপ দিয়েছিল কিন্তু পরিমাণে পেয়েছি ৭ কেজি। সরকারি বরাদ্দ সঠিক দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি পাইনি। আমাদের কম দিয়ে চেয়ারম্যান চাল আত্মসাৎ করছে।
নিতাই ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান মোত্তাকিমুর রহমান আবু বলেন, চাল শেষ হওয়ার কারণে হয়তো দেয়া হয়নি। তবে কেউ চাল কম পেয়েছে সেটা আমার জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, নিতাই ইউনিয়ন পরিষদে ২ হাজার ৭৮৭ কার্ডের বিপরীতে ২৭ দশমিক ৮৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ ছিল। সেখানে কাউকে কম দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
]]>নিহতরা হলো- কেতকীবাড়ি তেলিপাড়া গ্রামের হানিফ সরকারের মেয়ে হুমায়রা (৭) এবং একই এলাকার তাহেরুলের ছেলে তৌফিক হোসেন (৭)। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, নিহতদের বাড়িতে চলছে মাতম।
স্থানীয়রা জানান, তিন শিশু ছেঁড়া মশারি নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যায়। এর মধ্যে হুমায়রা ও তৌফিক পানিতে নামলে স্রোতে ভেসে গিয়ে ডুবে যায়। অপর শিশু সিয়াম বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দুই শিশুকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
কেতকীবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম রোমান বলেন, “তিন শিশু বাড়ির লোকজনের অজান্তে মশারি নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিল। এতে দুর্ঘটনায় পড়ে দুই শিশু মারা গেছে।
]]>