• শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

মহান ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত : রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৩

কবি শামসুর রাহমানের কবিতা-
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত
ঘোষণার ধ্বনিপ্রতিধ্বনি তুলে,
নতুন নিশান উড়িয়ে,
দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায়
তোমাকেই আসতে হবে, হে স্বাধীনতা

রাকিবুজ্জামান আহমেদ

সত্যিই বাংলায় এসেছে সেই মহার্ঘ্য স্বাধীনতা, বাঙালির সেই গৌরবদীপ্ত দিন। ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের বুকে স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল বীর বাঙালি। এই দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে চিরস্মরণীয়, অনন্যসাধারণ একটি দিন। সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায় দিনটি। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা, এই দিনে জাতি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করে বীর শহীদসহ মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনাদের।

মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস। আবার এই মাসেই বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ভাষা সংগ্রামেরও মূল সূচনা মার্চ মাসে। ১৯৪৮ থেকে ১১ মার্চ ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়েছে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত ঘটনার পরে ফেব্রুয়ারি হয় আমাদের ভাষা সংগ্রামের মাস।

অন্যদিকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চেই বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বর হত্যাকাণ্ডের শুরু এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণটিও দিয়েছেন ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ৭ তারিখে। অর্থাৎ সবদিক থেকেই মার্চ মাস বাঙালির জাতীয় জীবনে একটি অতুলনীয় এবং অবিস্মরণীয় মাস। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণাও দেন ১৯৭১ সালের এই মার্চ মাসেই।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গণহত্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। নির্বিচারে হত্যা করা হয় অসংখ্য মানুষকে। একাত্তরের ২৫ মার্চের মৃত্যুর বিভীষিকা থেকে এক হয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল দেশের মানুষ।

ওই দিন দিবাগত রাতেই (একাত্তরের ২৫ মার্চ) গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু। তার আগেই বার্তা পাঠিয়ে দেন স্বাধীনতার ঘোষণার। এই-ই হয়তো আপনাদের জন্য আমার শেষ বাণী হতে পারে। আজ থেকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। এরপর গঠিত হয় প্রবাসী সরকার। তাদের নেতৃত্বে সংগঠিত রূপ নেয় মুক্তিযুদ্ধ। জাতির পিতার নির্দেশে পরিচালিত নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস যেমন গৌরবের, তেমনি বেদনারও। এই দিনটিকে ঘিরে রয়েছে অনেক দুঃখ-কষ্ট-বেদনা, রয়েছে অনেক উচ্ছ্বাস, আবেগ, অনুভূতি আর আনন্দ-বেদনার মিশ্রণ। অনেক রক্ত ও আত্মত্যাগ, অনেক সংগ্রাম, অনেক বেদনার বিনিময়ে এসেছে এ স্বাধীনতা।

আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেই সব জানা-অজানা শহীদকে, যাঁরা তাঁদের বর্তমানকে বিসর্জন দিয়ে গেছেন এ দেশের ভবিষ্যৎকে সুন্দর করার জন্য। এ দেশের বীর যোদ্ধা যারা দেশের জন্য আত্মোৎসর্গ করেছেন, সম্ভ্রম হারিয়েছেন যে সকল মা-বোন, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন সেসব বীর সূর্যসৈনিকদের জানাই অজস্র সালাম আর শ্রদ্ধা।

ঐতিহাসিক এই দিনে জাতীয় চার নেতাসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা শ্রদ্ধাবনত মস্তকে স্মরণ করি। তিনি শুধু বাংলাদেশের নন, বিশ্বের মহান নেতা ছিলেন।

সবাইকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা


এ জাতীয় আরও খবর :