• শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

আমাদের রংপুর ডেক্স

কালীগঞ্জে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আলোচনা সভা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত : বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২

 

আমাদের রংপুর ডেক্স :

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পন করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সহকারি কমিশনার ভূমি ইসরাত জাহান ছনি, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম গোলাম রসুল, বীব মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আতিকুল ইসলাম, প্রেসক্লাব সভাপতি আমিরুল ইসলাম হেলাল, কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি মিজানুর রহমান,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম,উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইয়েদুল মোফাচ্ছালীন, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদ।
বক্তারা শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে পাকিস্তান বাহিনী যখন বুঝতে শুরু করে যে তাদের পক্ষে যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়, তখন তারা নবগঠিত দেশকে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে অঙ্কুরেই দুর্বল করে দিতে এক হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশ স্বাধীনের মাত্র দুই দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনীর সহায়তায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তাদের বাসা থেকে তুলে এনে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে। পরিকল্পিত গণহত্যাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত। বন্দি অবস্থায়ও বুদ্ধিজীবীদের বিভিন্ন বধ্যভূমিতে নিয়ে হত্যা করা হয়।
দেশে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে শিক্ষাবিদ ৯৯১, সাংবাদিক ১৩ জন, চিকিৎসক ৪৯ জন, আইনজীবী ৪২ জন এবং অন্যান্য (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী এবং প্রকৌশলী) ১৬ জন। এর মধ্যে শহীদ শিক্ষাবিদ ৯৬৮ জন এবং শহীদ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ২১ জন। মোট শহীদ শিক্ষাবিদ ৯৮৯ জন।

এই ঘটনার দুদিন পর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের ক্ষত-বিক্ষত ও বিকৃত লাশ রায়ের বাজার এবং মিরপুর বধ্যভূমিতে পাওয়া যায়। অনেকের লাশ শনাক্তও করা যায়নি। পাওয়া যায়নি বহু লাশ। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশে পালিত হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। সরকার প্রাথমিকভাবে ১২২২ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকাও চূড়ান্ত করেছে। এবং সরকার এ তালিকা প্রাথমিকভাবে অনুমোদনও দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, ড. মুনীর চৌধুরী, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, ড. আনোয়ার পাশা, ড. আবুল খায়ের, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. সিরাজুল হক খান, ড. এ এন এম ফাইজুল মাহী, হুমায়ুন কবীর, রাশিদুল হাসান, সাজিদুল হাসান, ফজলুর রহমান খান, এন এম মনিরুজ্জামান এ মুকতাদির, শরাফত আলী, এ আর কে খাদেম, অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য, এম এ সাদেক, এম সাদত আলী, সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য, গিয়াসউদ্দিন আহমদ, এম মর্তুজা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. হবিবুর রহমান, ড. শ্রী সুখারঞ্জন সমাদ্দার, মীর আবদুল কাইউম।

চিকিৎসকদের মধ্যে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি, অধ্যাপক ডা. আব্দুল আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. শামসুদ্দীন আহমেদ, ডা. হুমায়ুন কবীর, ডা. আজহারুল হক, ডা. সোলায়মান খান, ডা. আয়শা বদেরা চৌধুরী, ডা. কসির উদ্দিন তালুকদার, ডা. মনসুর আলী, ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা, ডা. মফিজউদ্দীন খান, ডা. জাহাঙ্গীর, ডা. নুরুল ইমাম, ডা. এস কে লালা, ডা. হেমচন্দ্র বসাক, ডা. ওবায়দুল হক, ডা. আসাদুল হক, ডা. মোসাব্বের আহমেদ, ডা. আজহারুল হক, ডা. মোহাম্মদ শফী। সাংবাদিকদের মধ্যে শহীদুল্লাহ কায়সার, নিজামুদ্দীন আহমেদ, সেলিনা পারভীন, সিরাজুদ্দীন হোসেন, আ ন ম গোলাম মুস্তফা।

গীতিকার ও সুরকার আলতাফ মাহমুদ, রাজনীতিবিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, সমাজসেবক এবং দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা (আরপি সাহা), শিক্ষাবিদ, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক যাগেশ চন্দ্র ঘোষ, লেখক, কবি মেহেরুন্নেসা, শিক্ষাবিদ, গণিতজ্ঞ ড. আবুল কালাম আজাদ, আইনজীবী নজমুল হক সরকার ও সমাজসেবক, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক নূতন চন্দ্র সিংহ। এছাড়া ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে ১৬ ডিসেম্বরের পর শহীদ হন চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান।

 

 


এ জাতীয় আরও খবর :