• শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ১২:০৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঊর্ধ্বগতির বাজার : হিসেব মেলে না সংসারের

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২২

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। মানুষের আয় না বাড়লেও দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়েছে সবজি, ডিম ও প্রয়োজনীয় অনেক নিত্য পণ্যের দাম। মাছ ও মাংসের দামের সাথে অস্থির এখন চালের বাজারও। আয়ের সঙ্গে বাড়তি ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছে না নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষ।

গত ৩০ দিনে এসব পণ্যের দাম দফায় দফায় বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ায় প্রতিটি পণ্যের দাম নিয়মিতই বাড়ছে।

রংপুরের সিটিবাজার, ধাপ বাজার, লালবাগ বাজার, কামাল কাছনা বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব কথা জানা যায়।

শুক্রবার (২১ অক্টোবর) রংপুর সিটি বাজারে কথা হলো বাজার করতে আসা রবিউল ইসলাম নামের এক ক্রেতার সাথে। তিনি বলেন, বাজারের প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। টুথপেস্ট থেকে শুরু করে ডিম পর্যন্ত। আগে ৫/৬শ টাকায় যে বাজার করা যেত এখন সেগুলো কিনতে ৯শ থেকে ১ হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। সন্তানদের পড়াশোনা আর সংসার সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রংপুরের বাজারগুলোতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চালের দাম। ২৫ কেজির বস্তার মোটা চাল আটাশ ছিল ৪৮ থেকে ৫২ টাকা, সেই চাল আজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায়। আটাশ চিকন চাল গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হলেও আজ তা বেড়ে ৭০ টাকায় ঠেকেছে। ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মিনিকেট চাল আজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়।

দ্রব্যমুল্যের অস্থিরতায় পিছিয়ে নেই মাছের বাজারও। কেজিতে প্রায় ১শ টাকারও বেশি বেড়েছে দাম। এক মাস আগের দামের তুলনায় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে মাছের বাজার।

গত সপ্তাহে কাচা মরিচের কেজি বিক্রি হয় ৫০ টাকা আজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা দরে। ২৫ টাকা দরের বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে। ২০-২৫ টাকা কেজির আলুর দাম আজ ৪০ টাকা। ২৫-৩০ টাকা কেজির পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। করলার দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। চিনির দাম বেড়েছে ২০ টাকা ও ডিমের হালি প্রতি ১০ টাকা। একমাস আগে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। সেই দাম বেড়ে আজ বিক্রি হচ্ছে ২শ ২০ টাকায়। সোনালি মুরগির(লেয়ার) দাম ছিল ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, আজ তা বিক্রি হয় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকার রিকশাচালক মোশাররফ হোসেন জানান, প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ায় কম কম করে কিনছেন তিনি। আগে আলু এক কেজি কিনলে এখন তা হাফ কেজি কিনতে হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, দৈনিক যে পরিমাণ আয় করেন তা নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ ডাল ভাত খেয়ে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছে।

মরিয়ম বেগম নামের এক গৃহিণীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে এসে এখন হিসাবই মেলাতে পারছেন না তিনি। বলেন, যে টাকা নিয়ে আসি তাতেই হিসাবের বাজারের অর্ধেকই পাওয়া মুশকিল।

লালবাগ বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর মুলত সবজির দাম বেড়েছে। এখন পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে পাইকারি বাজারেই কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে সবজি বিক্রি হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ভোক্তার চাহিদা ও ব্যবসায়ীদের বিক্রিও কমেছে।

ধাপ বাজারের ব্যবসায়ী জুন্নুন আলী বলেন, পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রিও কমে যাচ্ছে । আগের চাইতে ক্রেতারা পরিমানেও কম কিনছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রংপুরের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি বলেন, যে হারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা ফায়দা নিচ্ছে বেশি।চালের দাম কেজিপ্রতি ৫০ পয়সা বাড়ানোর কথা থাকলেও তারা ৪ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে সরকার এ সকল অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি নজর রাখছে এবং যারা অন্যায্যভাবে দাম বাড়াচ্ছে তাদের প্রতি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। এবং দেশে যে সংকট চলছে তা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে কেটে যাবে বলে আশ্বাস দেন।

 


এ জাতীয় আরও খবর :