• শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০১:২২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

খামারভাতী শিবমন্দিরের জমি বেদখল, মামলা চলমান

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০২২

আমাদের রংপুর ডেক্স:

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ৫ নং চন্দ্রপুর ইউনিয়নে অবস্থিত অতিপ্রাচীন শিবমন্দির।

এই শিবমন্দিরের ইতিহাস অতিপ্রাচীন। মন্দিরটির  জমির পরিমান ২১একর। কিন্তু দখলে আছে ১২৪শতক। মন্দির ২৭শতক ও পুকুর ৯৭শতক।আর বাকি জমি বেদখল। কেউ হুকুমদখল করে কেউবা জোরকরে কেউবা নামমাত্র কাগজ করে নিজের দখলে ভোগদখল করছেন। অথচ এই জমির মালিক ছিল স্থানীয় হিন্দু জনসাধারণের আরাধ্য শ্রীশ্রী শিবদেব বিগ্রহ এবং সেবায়েত ছিলেন গোপীবল্লভ সেন গং বিগত সি,এস রেকর্ড শ্রীশ্রী শিবদেব বিগ্রহের নামে।

নালিশী সম্পত্তি সি,এস রেকর্ডের পূর্ব হতেই শ্রীশ্রী শিবমন্দির ছিল এবং মন্দিরে শিব বিগ্রহের যথারীতি নিত্যভোগ ও পূজাপার্বণ চালু ছিলো এবং অদ্যাবধি চালু আছে।দেববিগ্রহ পূজাপার্বণের দায়িত্বে ছিলেন গোপীবল্লভ সেন গং।

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে পাক ভারত বিভক্তির কারনে তৎকালীন সেবায়েত গোপীবল্লভ সেন ও তাঁহার বংশধর স্থানীয় হিন্দু জনসাধারণের উপর মন্দির এবং দেব বিগ্রহের জোত জমি পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন।১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্থানীয় হিন্দু জনসাধারণের অনেকেই জীবনরক্ষার্থে প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নেয় এবং দেশ স্বাধীন হলে ফিরে এসে পূনরায় মন্দির সংস্কার সাধন করে শ্রীযুক্ত রাজেন্দ্র নাথ রায় পুরোহিতের মাধ্যমে পূজাপার্বণ চলতে থাকে।

স্থানীয় জনগণ এই মন্দিরে নিজউদ্যোগে সাপ্তাহিক হরিবাসর,পূর্নিমা তিথিতে নাম সংকীর্তন এবং প্রতিবছর ফাল্গুনী শিবচতুর্দশী তিথিতে শ্রী শ্রী শিবদেব বিগ্রহের পূজা সাড়ম্বরে পালন করে।তিনদিন ব্যপী মেলা চলে।এই মেলায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষজন আসে। কিন্ত ২ অক্টোবর ২০১১ তারিখে মন্দিরে যাওয়া-আসার রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, ঝগড়াঝাটি হয় এবং জমি দখল করে। জমি পুনরুদ্ধারে মন্দির কমিটি মামলা করেন। মামলা আজও চলমান।

স্থানীয় জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠু   তদন্ত করে মন্দিরের প্রাপ্য জমি পুনরুদ্ধারে আইনি ব্যবস্থা নিবেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।


এ জাতীয় আরও খবর :