• শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুদান পাওয়ার আগেই মারা গেলেন একাধিক রোগী

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত : সোমবার, ৬ জুন, ২০২২

আমাদের রংপুর ডেক্স:

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে জটিল রোগের চিকিৎসার আর্থিক অনুদানের চেক পাওয়ার আগেই আট রোগী মারা গেছেন। এখন তাদের নমিনিদের নামে নতুন করেন চেক ইস্যু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্টোকে প্যারালাইজড, থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে। প্রতিটি উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্দিষ্ট আবেদন ফরমের আবেদন করতে হয়। পরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য সরকারি অনুদান পেতে ২৯ জন আবেদন করে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে যথারীতি আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এতে তারা সরকারি অনুদান পাওয়ার উপযোগী হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। গত ৮ মে নীলফামারী সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে সুপারিশপ্রাপ্তদের নামে ৫০ হাজার টাকা করে ২৯টি চেক ইস্যু করা হয়। কিন্তু চিকিৎসার আর্থিক অনুদানের ওই চেক পাওয়ার আগেই মারা যান ৮ জন জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।

এদের একজন হচ্ছেন মোসা. আবেজা (৪৮)। তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের পশ্চিম বেলপুকুর মোল্লাপাড়ার মৃত ছকি মামুদের স্ত্রী। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। চার সন্তানের জননী বিধবা আবেজার স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার চিকিৎসা পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক অর্থকড়ি ব্যয় করা হয়। কিন্তু তিনি সুস্থ হয়ে উঠেননি।  এ অবস্থায় তার চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন তার পরিবার। এর পর বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর পেয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে মাধ্যমে তার সুচিকিৎসার আর্থিক অনুদানের জন্য আবেদন করা হয়। তার নামে যথারীতি সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা অনুদানও বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু অনুদানের চেক হাতে পাওয়ার আগেই মারা যান আবেজা। শুধু আবেজা নয়, নীলফামারীর সৈয়দপুরে এ রকম জটিল রোগের আটজন রোগী চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা অধিপ্তরের সরকারি আর্থিক অনুদানের অর্থ পাওয়ার আগেই মারা গেছেন। তারা হচ্ছেন– আবদুল রহিম, মরিয়ম খাতুন, শ্রী জানকি রায়, মোসা. আলেফা বেগম, হালিমা খাতুন, মোছা. মিরিজন বেওয়া ও রশিদুল ইসলাম।

সৈয়দপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নুর মোহাম্মদ জানান, যেসব আবেদনকারী চেক হস্তান্তরের আগেই মারা গেছেন, ওই সব চেক এখন নতুন করে তাদের নমিনির নামে ইস্যুর জন্য নীলফামারী জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হবে।


এ জাতীয় আরও খবর :