• শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ০৭:১৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

ভয়,সহিংসতা ও আশঙ্কার মধ্যেই আজ ৮৩৫ ইউপির ভোট 

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১

ভয়,সহিংসতা ও আশঙ্কার মধ্যেই আজ ৮৩৫ ইউপির ভোট

ভয়,সহিংসতা ও আশঙ্কার মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) দ্বিতীয়ধাপের ৮৩৫ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা-অজানা শঙ্কা রয়েছে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে। ভোট নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে নির্বাচনী সব এলাকায়। ভোট কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা।

সহিংসতার ঘটনায় ‘অস্বস্তি’ ও ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কঠোর পদক্ষেপে নেয়ার কথা বললেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ফলে এই ধাপের নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় বাধ্য হয়ে ১০ জেলায় বিজিবি মোতায়নে করা হয়েছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের ইউপি নির্বাচনে ইসির কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। নির্বাচন কমিশন অনেকটা অসহায়। ঘরে ঘরে পাড়া মহল্লায় পাহারা দিয়ে নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। বুধবার কমিশন সভা শেষে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনার প্রেক্ষাপটে সিইসির এমন বক্তব্য এলো। নরসিংদীসহ কয়েকটি ঘটনার সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে নূরুল হুদা বলেন, এ জাতীয় ঘটনা এভাবে পাহারা দিয়েও ঠেকানো যায় না, বাস্তবতা হলো এটা। ঘরে ঘরে মহল্লায় মহল্লায় পুলিশ দিয়ে পাহারা দিয়ে এ জাতীয় অপ্রীতিকর ঘটনা থামানো যায় না। এর একমাত্র উপায় হলো নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহনশীলতা। নির্বাচনসুলভ আচরণ করতে হবে। স্থানীয় নির্বাচনে উত্তেজনা প্রতিদ্বন্দ্বীতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি। দ্বিতীয়ধাপের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিইসি। তিনি জানান, নির্বাচনী সহিংসতা দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮ ইউপি ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হলেও আজ ভোটগ্রহণ হবে ৮৩৫ ইউপিতে। কেননা ৫ ইউপিতে সব পদে জনপ্রতিনিধিরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ৭ ইউপি ভোট স্থগিত করেছে ইসি এবং ১ ইউপির ভোট বাতিল করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে মোট ভোট কেন্দ্র হচ্ছে ৮৪৯২টি। মোট ভোটার হচ্ছে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৯৫ হাজার ২২৬ জন। এরমধ্যে এ ধাপে ১৬ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। ৮৩৫ ইউপিতে  চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৩৩১০ জন: সংরক্ষিত নারী প্রার্থী ৯১৬১ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছেন ২৮৭৪৭ জন। এ নির্বাচনের মোট ৪১২১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০টি ইউনিয়ন পরিষদে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এবং বাকিগুলোতে প্রচলিত ব্যালট পেপারে ভোট হবে। নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার সব ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে র‍্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় টহল শুরু করেছেন। তারা থাকবেন ভোটের পরের দিন পর্যন্ত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে রয়েছেন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

ওসিদের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ইসি ! স্থানীয় পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় নির্বাচন একজন নির্বাচন কমিশনার ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, থানার ওসিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ওসিরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করছেন। পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে র‍্যাব-বিজিবি লাগে না।

১০ জেলায় বিজিবি মোতায়েন : উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করেছে। বিশেষ করে স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, মাদারীপুরসহ ১০টি জেলায় নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

৮১ জন চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী :দ্বিতীয়ধাপের ভোটে ১৮ জেলার ২৮ উপজেলায় ৮১ জন চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হওয়ায় তারা সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। এছাড়াও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭৬ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ২০৩ জন নির্বাচিত হয়েছেন। বিনাভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের মধ্যে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ৫ জন, ভোলার দৌলতখানে ১ জন, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে ১ জন, নারায়ণগঞ্জ সদরে ২ জন, রূপগঞ্জে ৩ জন, শেরপুর সদরে ৩ জন, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ৩ জন, জামালপুর সদরে ৫ জন, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে ৩ জন, কুমিল্লার লাকসামে ৫ জন, তিতাসে ১ জন, মেঘনায় ১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হয়েছেন। একইভাবে চাঁদপুর সদরে ২ জন, ফেনীর ফুলগাজীতে ৩ জন, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ১ জন, মাদারীপুরের কালকিনিতে ১ জন, শরীয়তপুর সদরে ৩ জন, খুলনা সদরে ১ জন, মাগুরা সদরে ৩ জন, যশোরের চৌগাছায় ২ জন, বাগেরহাট সদরে ৩ জন, মোল্লাহাটে ১ জন, জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ১ জন, সিরাজগঞ্জ সদরে ৩ জন, রায়গঞ্জে ৩ জন, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ৫ জন, মিরসরাইয়ে ১৩ জন এবং ফটিকছড়ি উপজেলায় ৩ জন বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হয়েছেন।

মাঠ প্রশাসনেরও সহিংসতার আশঙ্কা :ইউপি ভোটের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন গত ৪ঠা নভেম্বর সারাদেশের মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে। ওই বৈঠক থেকে আলোচনা সভায় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনার তার বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে সহিংসতার আশংকা প্রকাশ করেছিলেন। সেই আশংকার ৭জনের প্রাণহানি হয়। এর মধ্যে নরসিংদীতে ৪জন, রুপগঞ্জে ১জন এবং মেহেরপুর ২জন।

ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলায়-জেলায় অস্ত্রের ঝনঝনানিও বেড়ে চলেছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটছে। নির্বাচনে অন্য দলের কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও ভোটের মাঠে কার্যত ক্ষমতাসীনরাই। ভোটে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগই। ক্ষমতাসীন দলের নিজেদের মধ্যকার সংঘাত-সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে বেকায়দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।

উল্লেখ্য, সারাদেশে সাড়ে ৪ হাজার ইউপি রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২১ জুন ২০৪ ইউপি ও ২০ সেপ্টেম্বর ১৬০ ইউপির ভোট হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৫ ইউপির ভোট আজ। তৃতীয় ধাপে ১০০৩ ইউপির ভোট হবে ২৮ নভেম্বর। চতুর্থ ধাপের ৮৪০ ইউপিতে ভোট ২৩  ডিসেম্বর।


এ জাতীয় আরও খবর :